• মে ৮, ২০২১

Electronic Funds Transfer (EFT)

ইএফটি’র আদ্যোপান্ত শেষ পর্ব: বিস্তারিত

লেখকঃ তাপস চন্দ্র কর্মকার হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট।

গৃহীত প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন উৎস এবং অফিস প্রধানের থেকে প্রাপ্ত তথ্যদের ভিত্তিতে আজকে EFT শেষ পর্ব লিখছি।

প্রথমে বলে নেই EFT এর তথ্যগুলোর কিছু তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনটি সার্ভার থেকে আসবে।

১. এনআইডি সার্ভার থেকে

২. পে-ফিক্সেশন থেকে

৩. বাংলাদেশ ব্যাংক  সার্ভার থেকে।

এবার নতুন ফরমের চারটি পাতার আলোকে প্রতিটি বিষয় বর্ণনার চেষ্টা করছি-

১। কর্মচারীর নাম সনদ অনুযায়ী বাংলায় লিখতে হবে।

2। পদবী (ইংরেজি CAPITAL/ BLOCK LETTER): HEADTEACHER/ ASSISTANT TEACHER.

3। জাতীয় পরিচয় নম্বরঃ ২০২০ সালের জুলাই মাসের ইনক্রিমেন্ট বা পে-ফিক্সেশন কপিতে যে এনআইডি নম্বর দেওয়া আছে। সেটা হতে পারে ১৭ ডিজিট/ ১০ ডিজিট (স্মার্ট কার্ড) নম্বর দিতে হবে।

৪। জন্ম তারিখঃ সনদ অনুযায়ী

৫। সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের ধরনঃ যার জন্য যেটা প্রযোজ্য তিনি সেই ঘরে টিক চিহ্ন দিবেন।

কিছু প্রশ্নঃ

ক. এনআইডিতে নাম ভুল আছে খ. জন্ম তারিখ ও সাল ভুল আছে গ. নামের বানান ভুল আছে ঘ. নামের কোন অংশ ভুল হয়েছে ঙ. সনদে এক নাম এনআইডি নামের অন্য অংশ আছে।

এগুলো না ভেবে এনআইডি নম্বরটি দিয়ে দিতে হবে। আগে দরকার EFT এর মাধ্যমে জানুয়ারি মাসে বেতন ধরা। এনআইডিতে কোন ভুল থাকলে তা পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন করে EFT তে তা আপডেট করিয়ে নেওয়া যাবে।

১। লিঙ্গঃ যার জন্য যেটা সেটাতে টিক দিতে হবে।

২। পিতার নামঃ সনদ অনুযায়ী ইংরেজিতে CAPITAL/ BLOCK LETTER এ।

৩। মাতার নামঃ সনদ অনুযায়ী ইংরেজিতে CAPITAL/ BLOCK LETTER এ।

৪। ধর্মঃ যার যেটা সেটাতে টিক চিহ্ন দিতে হবে।

৫। বৈবাহিক অবস্থাঃ যার জন্য যেটা প্রযোজ্য সেটাতে টিক চিহ্ন দিতে হবে। তবে তালাক প্রাপ্ত হলে এবং নতুন করে বিয়ে না করলে অন্যান্য ঘরে টিক দিতে হবে।

৬। মোবাইল নম্বরঃ বায়োমেট্রিস রেজিস্ট্রেশন করা যে কোন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে। পে-ফিক্সেশনে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরই দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। কারণ মোবাইল নম্বরের ঘরটিতে RED STAR  দেওয়া। যাতে ব্যাংকের এসএমএস আসবে।

৭। ইমেইল ও ই-টিআইএন নম্বর কারো থাকলে তিনি দিবেন। না থাকলে N/A লিখবেন।

কিছু প্রশ্নঃ

ক. এনআইডিতে বাবা ও মায়ের নাম ভুল আছে খ. এনআইডির সাথে বাবা মায়ের নামের, জন্ম সালের মিল নেই।

এগুলো চিন্তা আপাতত বাদ দিয়ে দিতে হবে। EFT আগে পূরণ শেষ করতে হবে। কারণ সময় কম। পরবর্তীতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এনআইডির ভুলগুলো সংশোধন করে অফিসের মাধ্যমে তথ্য আপডেট করে নেওয়া যাবে।

১। স্বামী/ স্ত্রীর তথ্য দিতে হবে। যদি এনআইডি না থাকে তবে N/A লিখতে হবে। পরবর্তীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এনআইডি করে সেই তথ্য আপডেট করিয়ে নেওয়া যাবে। তবে কেউ বিধবা/বিপত্নীক/ তালাক প্রাপ্ত হলে তথ্য দেবার দরকার নেই। স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি তথ্য ভুল থাকলেও তা এখন ঐ অবস্থাতেই এন্ট্রি করাতে হবে। পরে তা সংশোধন করিয়ে অফিস থেকে আপডেট করানো যাবে।

১। সন্তানের বয়স 5 বছর হলেই তথ্য দিতে হবে। কারণ শিক্ষা ভাতা ৫-২৩ বছর বয়স পর‌্যন্ত পাওয়া যাবে। সন্তান থাকলে তথ্য দিতে হবে। না থাকলে N/A লিখতে হবে।

কিছু প্রশ্নঃ

ক. সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হয়নি তথ্য কি দিবো? খ. সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করা হয়নি গ. সন্তান সংখ্যা তিনজন বা পাঁচজন তথ্য কি দিবো? ঘ. এক সন্তানের বয়সের শিক্ষা ভাতা পেয়েছি তার বয়স পার হয়ে গেছে আর একজনের দেওয়া যাবে কি?

সন্তান যতজনই হোক তথ্য দিলে ভালো হয়। তবে সন্তান যতজনই হোক (দুইয়ের অধিক) শিক্ষাভাতা পাবে মাত্র দু’জন। কারো শিক্ষা ভাতা পেয়ে থাকলে এবং তার বয়স পেরিয়ে গেলে তৃতয়ী সন্তানের শিক্ষাভাত হবে না। কারণ আইন অনুসারে সন্তান যতজনই হোক শিক্ষা ভাতা পাবে মাত্র দু’জন।

কমন প্রশ্নঃ

ক. শিক্ষাভাতা মা না বাবা নিবেন?

শিক্ষাভাতা সাধারণত মায়ের সাথেই যায়। তবে বাবা-মাকে ঠিক করতে হবে শিক্ষাভাতা কার সাথে দেখাবেন। বাবা যদি দু’জন এর শিক্ষা ভাতা নিতে চান তবে মা এন্ট্রি দিবেন না। আবার মা নিলে বাবা এন্ট্রি দিবেন না। আবার বাবা এবং মা দু’জনই একজন একজন করে ভাগ করে নিতে পারবেন। অতিরিক্ত তথ্য দিলে তা এন্ট্রির সময় ধরা পরবে। যেকোন একজনের সাথে হিসাব দেখাবে।

১। প্রতিবন্ধী সন্তানের পরিচিত নম্বর সমাজ সেবা অফিস থেকে নিতে হবে। প্রতিবন্ধী সন্তান না থাকলে N/A লিখতে হবে।

১। ব্যাংক হিসাবের নামঃ ইংরেজি CAPITAL/ BLOCK LETTER এ লিখতে হবে। ব্যাংক হিসাবের নাম ব্যাংকে যেভাবে দেওয়া আছে সেই ভাবেই লিখতে হবে। এখানে শিক্ষা সনদ বা এনআইডি অনুসারে নাম লেখা যাবে না। কারণ এই অংশটির তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক সার্ভার থেকে আসবে।

ব্যাংকে হিসাব খোলার সময় যেভাবে নাম দেওয়া ছিল সেই নাম ও বানান লিখতে হবে। যেমনঃ সনদ অনুসারে নাম TAPOSH CHANDRA KARMOKER. কিন্তু ব্যাংক হিসাবে আছে TAPOSH CHANDRO KORMOKAR কিংবা TAPOSH KARMOKER তাহলে ব্যাংক হিসেবে থাকা নামটিই ব্যাংক হিসেবে দিতে হবে। নতুবা বাংলাদেশ ব্যাংক সার্ভার হিসাবের নাম খুঁজে পাবে না।  

কিছু প্রশ্নঃ

ক. সনদের নাম দেওয়া নাই খ. এনআইডি নামের সাথে ব্যাংক হিসেব নাম মিল নাই গ. ব্যাংক হিসেবে বাংলা নাম লেখা

সনদ ও এনইডিতে যে নাম যে বানানই থাক না কেন তা দেওয়া যাবে না। ব্যাংক হিসেবে যে নাম দেওয়া আছে তাই দিতে হবে। পরবর্তীতে তথ্য সংশোধন করে তথ্য আপডেট করানো যাবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট কপি ব্যাংক থেকে নিতে হবে। তাতে ব্যাংক হিসেবের নামটি ইংরেজিতেই লেখা আছে।

২। হিসাব নম্বরঃ পুরো ব্যাংক হিসাব বা ACCOUNT নম্বরটি দিতে হবে।

৩। ব্যাংক হিসেবের ধরণ যার যেটা তা দিতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট কপি বা চেক বইয়ে ব্যাংক হিসেবের ধরণ দেওয়া আছে। সাধারণত ব্যাংক হিসেবের ধরণ সঞ্চয়ী বা SAVINGS হয়।

৪। ব্যাংকের নামঃ ব্যাংকের পুরো নামটিই লিখতে হবে। যেমনঃ SONALI BANK LIMITED

5। শাখার নামঃ যার যে ব্যাংকের শাখা সেই শাখার নাম উল্লেখ করতে হবে। যেমনঃ HATIBANDHA BRANCH, LALMONIRHAT.

6। রাউটিং নম্বরঃ এটি কোন ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখাতে নির্দেশ করে। ব্যাংক রাউটিং নম্বর চেক বইয়ে, ব্যাংক স্টেটমেন্ট কপিতে কিংবা গুগল সার্চ করলেই পাওয়া যাবে। গুগলে সার্চ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নাম (SONALI BANK) + ROUTING NUMBER লিখে সার্চ দিলেই তা পাওয়া যাবে। যেমনঃ ‍SONALI BANK ROTING NUMBER.

কিছু প্রশ্নঃ

ক. যে কোন ব্যাংকের হিসাব নম্বর দেওয়া যাবে কি? খ. উপজেলা পরিবর্তন করলে ব্যাংক হিসেব কি স্থানান্তর করা যায়? গ. বেসরকারি ব্যাংকের হিসেব নম্বর দিতে পারবো কি?

যে কোন তফশিলী ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত) (সরকারি/বেসরকারি) ব্যাংকের হিসেব নম্বর দেওয়া যাবে। যে ব্যাংকের তথ্যেই দেওয়া হোক তার অনলাইন সার্ভিস যেন থাকে। তবে ঝামেলা এড়াতে ব্যাংক হিসেব নম্বর ঠিক রাখলেই সুবিধে। ব্যক্তি ট্রান্সফার হলে অফিসিয়ালি ব্যাংক হিসেবও ট্রান্সফার করা গেলেও ব্যাংক একাউন্ট পরিবর্তিত হয়। কারণ এক উপজেলার ব্যাংক একাউন্টের সাথে অন্য উপজেলার ব্যাংক একাউন্ট মিলবে না। কারণ প্রত্যেকটি ব্যাংকের শাখা ও রাউটিং নম্বর আলাদা হয়। তাই ব্যক্তি ট্রান্সফার হলে নতুন একাউন্ট নম্বর দেওয়া ভালো।

১। বর্তমান পদঃ যার যে পদ তা লিখতে হবে। HEADTEACHER/ ASSISTANT TEACHER. চলতি দায়িত্ব হলে HEADTEACHER (CURRENT CHARGE) লিখতে হবে।

২। বর্তমান পদে যোগদানের তারিখ, বর্তমান গ্রেড, বর্তমান স্কেল (২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী), বর্তমান শ্রেণি (তৃতীয় শ্রেণি- প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক) টিক চিহ্ন দিতে হবে।

১। প্রথম যোগদানের কর্মস্থলের নাম হবে বিদ্যালয়ের নাম।

২। প্রথম যোগদানের তারিখে গ্রেড ও স্কেলঃ সরাসরি নিয়োগে শুধুমাত্র সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে কলামটিতে তথ্য দিতে হবে। আত্মীকরণ/জাতীয়করণকৃত/স্থানান্তরিতদের ক্ষেত্রে উভয় কলামে তথ্য দিতে হবে।

এখানকার তথ্যগুলো সার্ভিস বুকে এন্ট্রি থাকার কথা। সার্ভিস বুক দেখে এগুলো পূরণ করতে হবে।

১। পদোন্নতি পেলে তার তথ্য দিতে হবে। না পেলে N/A লিখতে হবে।

১। সিইনএড/ডিপিএড/বিএড করা থাকলে তার তথ্য দিতে হবে। না করা থাকলে N/A লিখতে হবে।

২। উচ্চতর গ্রেড/টাইমস্কেল পেলে তার তথ্য দিতে হবে। না পেয়ে থাকলে N/A লিখতে হবে।

কিছু প্রশ্নঃ

ক. ডিপিএড সার্টিফিকেট এখনো হাতে পাইনি খ. কয়েকদিন আগে সার্টিফিকেট হাতে পেয়েছি তথ্য দিবো কি? গ. বিএড স্কেলতো শুরু থেকেই পাচ্ছি। তাহলে কি তথ্য দিবো? ঘ. টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড যে কয়টি পেয়েছি সবগুলোর তথ্য দিতে হবে কি?

প্রথম কথা, যারা সার্টিফিকেট এখনো পাননি কিংবা সবে মাত্র হাতে পেয়েছেন তাদের এখন তথ্য না দেওয়াই ভালো। কেননা সার্টিফিকেট ধরাতে গেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের আদেশ ছাড়া সেই তথ্য দেওয়া যাবে না। যার  জন্য পর্যাপ্ত সময় এখন নেই।  আগে EFT তথ্য এন্ট্রি হোক পরে সনদ ধরিয়ে সেই তথ্য আপডেট করিয়ে নেওয়া যাবে। বিএড স্কেল শুরু থেকে যারা পাচ্ছেন তাদের তথ্য এখানে আসবে না। কারণ বিএড/আইইআর করে যারা যোগদান করেছেন তারা শুরু থেকেই উচ্চতর স্কেলেই বেতন পাচ্ছেন। শুরুইতো হয়েছে উচ্চতর স্কেল দিয়ে। সুতরাং সে তথ্য এখানে দেবার দরকার নেই। এন্ট্রির ঝামেলা এড়াতে সর্বশেষ টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড উল্লেখ করা যেতে পারে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সবগুলো তথ্যই দিতে বললে তাই দিতে হবে।

এই অংশের তথ্য যাদের প্রয়োজন শুধু তারা দিবেন। যাদের প্রয়োজন নেই তারা N/A লিখতে হবে।

১। এখানে ২০২০ সালের জুলাই মাসের পে-ফিক্সেশন বা ইনক্রিমেন্ট কাগজটিতে থাকা মূল বেতন ইংরেজি ডিজিটে লিখতে হবে।

২। চলতি দায়িত্ব প্রাপ্তরাঃ দায়িত্ব ভাতার ঘরে ১৫০০ টাকা লিখবেন। না থাকলে N/A লিখতে হবে।

৩। যাতায়াতা ভাতা যাদের আছে তারা দিবেন। শহর এলাকার জন্য বরাদ্দকৃত যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকার বরাদ্দ এখন বন্ধ রয়েছে। অফিসে কথা বলে নিতে হবে এই তথ্য এখন দিতে হবে কি না। না থাকলে N/A লিখতে হবে।

৪। শিক্ষা ভাতাঃ ১ সন্তান ৫০০ এবং দুই সন্তান ১০০০ টাকা লিখবেন। সন্তান না থাকলে N/A লিখতে হবে।

 ৫। বাড়ি ভাড়া ভাতাঃ যার জন্য যেটা সেটাই লিখবেন।

6। চিকিৎসা ভাতাঃ 1500

৭। টিফিন ভাতাঃ ২০০

৮। ধোলাই ভাতাঃ আমাদের নেই। তাই N/A লিখতে হবে।

এই অংশের তথ্য পে-ফিক্সেশন থেকে আসবে। প্রথম যোগদানের তারিখ পদবীও পে-ফিক্সেশন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে।

এই অংশটিতে যাদের তথ্য দেওয়ার  তারা দিবেন। যাদের প্রয়োজন নেই তারা N/A লিখবেন। কল্যাণ কর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নিবে। সুতরা এই তথ্যের যেহেতু ঘর নেই সুতরাং তথ্য দেওয়ার দরকারও নেই।

১। ভবিষ্য তহবিলের প্রকৃতিঃ যারা সুদসহ নিবেন তারা প্রথম ঘরে টিক চিহ্ন দিবেন। যারা সুদসহ নিবেন না তারা দ্বিতীয় ঘরে টিক চিহ্ন দিবেন।

২। হিসাব নম্বরঃ হিসাবরক্ষণ অফিস যেভাবে লিখেছে সেইভাবেই লিখতে হবে।

৩। ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরঃ হিসাবরক্ষন অফিস থেকে নিতে হবে। অথবা প্রতিবছর জিপিএফ এর কাগজ হিসাবরক্ষণ দিয়ে দেয়। সেখান থেকেই তথ্য পাবেন। না থাকলে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে তা সংগ্রহ করতে হবে।

৪। বর্তমান মাসিক চাঁদা কর্তনের পরিমাণঃ সর্বশেষ মূল বেতন অনুসারে যে যত টাকা কাটাচ্ছেন তা দিতে হবে।

কিছু প্রশ্নঃ

১। জিপিএফ নেই কি করবো? ২। জিপিএফ এর মেয়াদ এক বছর বা দুই বছর তাই ভলিউম ও পৃষ্টা নম্বর দেয়নি ৩। ট্রান্সফার হলে জিপিএফ নম্বর কি পরিবর্তন হয়? ৪। জিপিএফ এ মাসিক চাঁদার পরিমাণ কমাতে বা বাড়াতে চাই।

জিপিএফ না থাকলে NO লিখতে হবে। কিন্তু অফিস যদি খুলতে বলে তবে আবেদন করে হিসাব খুল নিতে পারেন এবং সেই তথ্য সরবরাহ করতে পারেন। জিপিএফ এর মেয়াদ এক বা দুই বছর হলে হিসাবরক্ষণ অফিস ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর দেইনি। কোন চিন্তা নেই। যা পেয়েছেন তাই দেন। পরবর্তীতে তা পেলে তথ্য আপডেট করাতে পারবেন। ব্যক্তি ট্রান্সফার হলে জিপিএফও ট্রান্সফার হয়। সেক্ষেত্রে জিপিএফ একাউন্ট পরিবর্তন হয় না। জিপিএফ এ মাসি চাঁদা বাড়ানো বা কমানোর কাজ প্রতি বছর জুলাই মাসে করতে হয়। জিপিএফ একাউন্ট নাই কিন্তু চাঁদা কর্তন হলে দ্রুততার সাথে আবেদন করে জিপিএফ একাউন্ট করে নিতে হবে। নতুবা পরে ঝামেলা বাড়তে পারে।

১। সরকারি চাকুরিজীবির ক্ষেত্রে নমিনি হবে স্বামী/স্ত্রী। স্বামী/স্ত্রী না থাকলে সাবালক সন্তানের তথ্য দিতে পারেন। কিংবা আপনার পছন্দ মতো কাউকে। তবে সময় যেহেতু কম সুতরাং জিপিএফ হিসাব খোলার সময় যে নমিনির নাম দিয়েছিলেন তাই দিলে সুবিধা হয়। পরবর্তীতে অফিসে আবেদন করে নমিনি পরিবর্তন করা যাবে। নমিনি একজন হলে মনোনীত অংশ ১০০%। একের অধিক হলে বিধি মোতাবেক দিতে হবে। কিংবা আপনার ইচ্ছে মতো।

এই অংশে জিপিএফ থেকে ঋণ নিলে তথ্য দিবেন। ঋণ না নিয়ে থাকলে N/A লিখবেন। ঋণ সংক্রান্ত তথ্যাদি হিসাবরক্ষণ অফিসে পাবেন।

Loan.png1। ফরমে বর্ণিত পাঁচটি ঋণ ছাড়া অন্য কোন ঋণ (কনজুমার/পার্সনাল ঋণ) সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, অন্য ব্যাংক বা সংস্থা থেকে নেওয়া হলে তার তথ্য এখানে আসবে না।

১। মাতৃত্বকালীন ছুটি, শ্রান্তি বিনোদন, হজে গমন, বহি: বাংলাদেশ গমন, অধ্যয়ন ছুটি ইত্যাদি এখানে লিখতে হবে। যার যে ছুটি তিনি সেটাই লিখবেন। অসাধারণ ছুটিও এখানে আসবে। যারা ভোগ করছেন তারাই তথ্য দিবেন। যারা ভোগ করেন নি তারা N/A লিখবেন।

কিছু প্রশ্নঃ

ক. মাতৃত্বকালীন ছুটির সাথে সন্তানের বয়স ঠিক নেই খ. শ্রান্তি বিনোদন ছুটি দেখাবো কি না?

মাতৃত্বকালীন ছুটির সাথে সন্তানের বয়স ঠিক না থাকেলেও চিন্তার কিছু নেই। এটা কোন সমস্যা করবে না। শ্রান্তি বিনোদন ছুটি দেখাতে হবে। মনে রাখতে হবে শ্রান্তি বিনোদন ছুটি আমাদের ক্ষেত্রে অর্জিত ছুটি থেকে বিয়োগ হবে না। কারণ আমরা নন-ভোকেশনাল ডিপার্টমেন্ট এবং শ্রান্তি বিনোদনের ভাতা পেলেও ছুটি ভোগ করি না। তাই এ শ্রান্তি বিনোদন তথ্য দিতে হবে। অনেকগুলো শ্রান্তি বিনোদন ভোগ করলেও আপাতত সর্বশেষ শ্রান্তি বিনোদন তথ্য দেখালেই চলবে। অফিস যদি সবগুলো শ্রান্তি বিনোদন দেখাতে বলে তবে তা দিতে হবে।

সাধারণত প্রাথমিকে এটা নাই বললেই চলে। যদি কারো থেকে থাকে তবে তথ্য দিবেন। না থাকলে N/A লিখবেন।

১। বিভাগীয় মামলা যা লঘুদণ্ড বা গুরুদণ্ড ভোগ করলে তার তথ্য দিতে হবে। যার জন্য প্রযোজ্য তিনিই দিবেন। যার জন্য প্রযোজ্য নয় তিনি N/A লিখবেন।

১। চাকুরীজীবির অবর্তমানে পেনশন প্রাপ্তির উত্তরাধিকারী মনোনয়নঃ সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে স্বামী/স্ত্রী এর উত্তরাধিকারী। স্বামী/স্ত্রী না থাকলে সাবালক সন্তান। অথবা মাতা-পিতা। অথবা নিজের পছ্ন্দসই কাউকে। মনোনীত অংশের হার বিধি মোতাবেক হবে। অথবা নিজেই ঠিক করে দিতে হবে। একজন হলে ১০০%। একের অধিক হলে বিধি মোতাবেক বা নিজেকেই শতকরা হার নির্ধারণ করে দিতে হবে। নমিনি পরিবর্তন করতে চাইলে পরবর্তীতে অফিসে আবেদন করে বিধি মোতাবেক তা করে নিয়ে EFT টিতে তথ্য আপডেট করা যাবে।

পুরো ফরমে ৬টি জায়গায় বাংলায় নাম লিখতে হবে। যেখানে যেখানে বাংলায় নাম লিখতে বলা হয়েছে সেখানে বাংলায় নাম এবং অবশিষ্টগুলো ইংরেজিতে নাম লিখতে হবে এবং তা অবশ্যই ইংরেজি CAPITAL LETTER এ লিখতে হবে।

EFT শিক্ষকের নিজে এন্ট্রি করার সুযোগ নেই। এ দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসের। শিক্ষক চারপাতার নতুন ফরম পূরণ করে একটি মাত্র কপির সাথে অধিদপ্তর নিরার্ধিত ১০টি তথ্য তথা কাগজের ফটোকপি ফরমের সাথে স্ট্যাপলার করবেন। এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সব শিক্ষকের ফরম একটি ফাইলে করে অফিসে জমা দিবেন।

অফিস কর্তৃক EFT ফরম এন্ট্রি শেষে প্রুভ কপি শিক্ষককে দেওয়া হবে। সেই প্রুভ কপি ভুল থাকলে তা এন্ট্রিতে সংশোধন করা হবে। অতঃপর ফাইনাল এন্ট্রি শেষে এন্ট্রিকৃত ফরম চারকপি প্রিন্ট করবে। প্রতিটি কপিতেই শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর ও সিল পূর্বক ১ কপি শিক্ষককে, ১ কপি শিক্ষকের ব্যক্তিগত নথিতে, ১ কপি হিসাবরক্ষণ অফিসে এবং ১ কপি সিলগালা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরিত হবে।

মূলতঃ

1। ব্যক্তিগত তথ্য

2। এনআইডি নম্বর

3। মোবাইল নম্বর

4। ব্যাংক হিসাব

5। বেতন ভাতা

এই পাঁচটি তথ্য পূরণকৃত ফরমে ঠিক থাকলে EFT টিতে সমস্যা হবে না। অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে তা পরবর্তীতে সংশোধন করে তথ্য আপডেট করে নেওয়া যাবে।

বি.দ্র. EFT ফরমে দেওয়া মোবাইল নম্বরটি ই- প্রাইমারী স্কুল সিস্টেমে আপডেট করে নিতে হবে। নতুবা অনলাইন বদলীতে সমস্যা হবে।


icthometech

আগের পোষ্ট

Primary Teacher Job Circular-2020

পরের পোষ্ট

English SK Unit-1 Hand-note

৬ Comments

  • দারুন লিখনি। 👌👌👌

    • অনেক ধন্যবাদ। আমাদের সাথেই থাকুন।

  • ৫ বছরের নিচে প্রতিবন্ধী সনদ সমাজসেবা দেয়না। করনিয় কি?

  • I-BAS এ আমাদের স্কুলের নাম না থাকায় আমরা পে ফিক্সেশন করতে পারিনি,এক্ষেত্রে ইএফটি করতে কি কোন সমস্যা হবে?

  • সুন্দর ভাবে বিভিন্ন বিষয় বুঝানোর জন্য ধন্যবা। আমার একটি প্রশ্নঃ আমার সকল তথ্য ঠিক আছে, কিন্তু পদের নাম প্রিন্ট দিলে খালি আসে।এটা কেন হয়?

  • ১। স্কুলের নাম না থাকলে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে তা অবহিত করতে হবে। এরপর হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে তা ঠিক করে নিতে হবে।
    ২। পদের নাম না আসলে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করে ঠিক করে নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!