• ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১

পেশাগত শিক্ষা (৪র্থ খন্ড); ক্লাস-০৮

cover image

পেশাগত শিক্ষা (৪র্থ খন্ড)

অধ্যায়: আইসিটি; সেকশন-১.৬>শিখন শেখানো কার্যক্রম ও পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সমন্বয়

ক্লাস-০৮: ডিজিটাল কন্টেন্ট কী, ডিজিটাল কন্টেন্ট এর গুরুত্ব, বিবেচ্য বিষয় ও ব্যবহার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইস্যু, সাইবার বুলিং, সাইবার ক্রাইম

ক্লাসের আলোচিত বিষয়:

  • ডিজিটাল কন্টেন্ট কী? 
  • ডিজিটাল কন্টেন্ট এর গুরুত্ব ও ব্যবহারের বিবেচ্য বিষয় এবং এর সুবিধা উল্লেখ করুন।
  • পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তকরণের যৌক্তিকতা কী?
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক ও ব্যবস্থাপনা ইস্যুসমুহ আলোচনা করুন।
  • সাইবার বুলিং কী? সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয় বিষয় লিখুন।
  • সাইবার ক্রাইম কী? সাইবার অপরাধের কয়েকটি উদাহরণ দিন।
  • সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম এর শাস্তি কী? এর প্রতিরোধে করণীয় উপায় লিখুন।

ডিজিটাল কন্টেন্ট কী? 

কনটেন্ট বলতে সাধারণভাবে কোন উপকরণ বা উপাদানকে বুঝায়। ডিজিটাল কনটেন্ট হলো সেই উপকরণ বা উপাদান যা ডিজিটাল ডিভাইসে সংরক্ষণ এবং এর মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল কনটেন্ট এর গুরুত্ব অনেক। নানা ধরণের ডিজিটাল কনেটেন্ট রয়েছে। সেগুলো হলো অডিও, ভিডিও, লিখিত, পাওয়ার পয়েন্ট, ছবি ইত্যাদি।

ডিজিটাল কন্টেন্ট দু’ধরণের হয়। যেমন-

১. ইন্টারঅ্যাকটিভ:  যেমন- ভিডিও, এ্যানিমেটেড ছবি ইত্যাদি এবং

২. ননইন্টারঅ্যাকটিভ: যেমন- টেক্সট, পাওয়ার পয়েন্ট, ছবি।

ডিজিটাল কন্টেন্ট এর গুরুত্ব ও ব্যবহারের বিবেচ্য বিষয় এবং এর সুবিধা উল্লেখ করুন।

ডিজিটাল কন্টেন্ট এর গুরুত্ব:

  • ডিজিটাল কনটেন্ট এর ফলে শিক্ষাদান পদ্ধতির যেমন উন্নতি ঘটেছে তেমনি শিখন আনন্দময় ও সহজ হয়েছে।
  • অন্যদিকে শিক্ষার নানা তথ্য ও উপাত্ত খুব সহজেই শ্রেণি কক্ষে বসেই শিক্ষার্থী পেতে পারছে আর এটা সম্ভব হয়েছে মূলত ডিজিটাল কনটেন্ট এর কারণে।
  • শুধু তাই নয় এখন শিক্ষার্থীকে শ্রেণি কক্ষে বসে না থেকেও ক্লাস করার সুযোগ হচ্ছে শুধু ডিজিটাল কনটেন্ট এর কারণে।
  • এছাড়াও শিক্ষার্থী যখন ইচ্ছা এবং যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসেই শিখতে পারছে।
  • মোট কথা ঘরে বসেই পৃথিবীর জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে এই ডিজিটাল কনটেন্ট এর ফলে।

ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের বিবেচ্য বিষয়:

  • সঠিক তথ্য উপাত্ত সমৃদ্ধ কনটেন্ট কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে,
  • কনটেন্ট তৈরির সময় ভুল বা অসত্য তথ্য যাতে সেদিকে লক্ষ রাখা,
  • কন্টেন্ট তৈরির সময় অহেতুক চাকচিক্য ও অপ্রয়োজনীয় কোনকিছু পরিহার করা,
  •  লেখা, ছবি বা ভিডিও ব্যবহারের ক্ষেতে দেশীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখা,
  • কোন সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা ধর্মীয় অনুভূতিতে যেন আঘাত না লাগে সেদিকে বিবেচনা রাখা,
  • ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের পূর্বে ডিভাইসগুলা ঠিক আছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করা,
  •  প্রয়োজনীয় বৈদূতিক সাপোর্ট ঠিক আছে কিনা তা কন্টেন্ট ব্যবহারে পূর্বেই নিশ্চিত হওয়া।

ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের সুবিধা:

  • সহজে বোধগম্য, আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন
  • সস্তা বা বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়,
  • সহজে বহন ও সংরক্ষণযোগ্য
  • স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়,
  • ইচ্ছেমতো সম্পাদনা করা যায় এবং বারবার ব্যবহার করা যায়।

পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তকরণের যৌক্তিকতা কী?

যেকোন পেশায় পেশাদারিত্ব অর্জনের কোন বিকল্প নেই। কারণ একজন পেশাজীবির দায়-দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের সেবা দান করাই মূল লক্ষ্য। শিক্ষকতা মহৎ পেশা কেননা এই পেশার মাধ্যমে একটি জাতির ভিত্তি গড়ে উঠে। এজন্য শিক্ষকদের হতে হবে সবচেয়ে আধুনিক। বর্তমান সময়টি তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর। সুতরাং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তকরণের যৌক্তিকতা রয়েছে। কী কী কারণে পেশাগত উন্নয়নে আইসিটির অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা রয়েছে তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো:

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জানা বা সাক্ষর ব্যক্তিগণই উপযুক্ত ও দক্ষ পেশাজীবী হবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। একজন শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়নে আইসিটি জ্ঞান থাকা জরুরী। কেননা একজন প্রযুক্তি সাক্ষর শিক্ষকই তার ছাত্রের যুগোপযোগী চাহিদা এর মাধ্যমে জানতে ও নিশ্চিত করতে পারবেন।
  • নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে তথ্য ও প্রযুক্তি জ্ঞান কাজে লাগাতে পারবেন।
  • ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারবেন।
  • ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও ব্যবহার করতে পারবেন।
  • দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষকদের কার্যক্রম অনলাইনে দেখতে পারবেন ফলে নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখতে পারবেন।
  • কনেন্ট শেয়ার করা, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস ডাউনলোড করতে পারবেন।
  • ই-বুক, ই-লাইব্রেরি ইত্যাদি সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।
  • ছাত্র-অভিভাবকদের সাথে নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের খোঁজ-খবর রাখতে পারবেন। এমনকি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ফিডব্যাক ও পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন।

এছাড়াও আরও নানা ধরণের বিষয়াবলী রয়েছে যা স্বল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তবে উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তকরণের যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক ও ব্যবস্থাপনা ইস্যুসমুহ আলোচনা করুন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তথা আইসিটি ব্যবহারের ইতিবাচক অনেক দিক থাকলেও এর নেতিবাচক দিকও কিন্তু কম নয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা তৈরি হয় যেগুলোকে ইস্যু বলা হয়। যেমন- ব্যক্তিগত ইস্যু, পারিবারিক ইস্যু, সামাজিক ইস্যু, অর্থনৈতিক ইস্যু, নৈতিক ইস্যু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ইস্যু ইত্যাদি। নিম্নে ইস্যুগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:

ব্যক্তিগত ইস্যু

১. স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হতে পারে।  যেমন- কম্পিউটার মনিটর বা স্ক্রীনের সামনে অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করলে চোখের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় ঘাড়ে ও পেশিতে ব্যথা হতে পারে। স্ক্রীনের সামনে এমন ভাবে বসার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে অন্তত ৯০ ডিগ্রী বরাবর চোখের অবস্থান থাকে মনিটর বা স্ক্রীনের থেকে। একাধারে বেশিক্ষণ কাজ না করে অন্তত দুই ঘন্টা পর পনের (১৫) মিনিট বিরতি নেয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

২. রেডিয়েশন এর ফলে মানবদেহের ক্ষতি হতে পারে। যেমন-: আইসিটি ডিভাইসগুলো থেকে এক ধরণের Electromagnetic Radiation (EMR) এর উৎপত্তি হয় যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লেখিত সমস্যার কথা মাথায় রেখে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। সেজন্য মনিটর বা স্ক্রীন থেকে যাতে অতিরিক্ত আলো বের হয়ে চোখে না লাগে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘরে বা যেখানে বসে কাজ করা হয় সেখানে যেন যথেষ্ট আলো থাকে। সম্ভব হলে মনিটরের উপরে প্রটেকটর ব্যবহার করা যেতে পারে।

পারিবারিক ইস্যু

  • পরিবারের কোন কোন সদস্য অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যেতে পারে। যেমন- গেইম এ আসক্ত হওয়ার ফলে পরিবার এবং ব্যক্তি উভয়ই সংকটে পড়তে পারেন।
  • ইন্টারনেট মাধ্যমে ফেইসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে চ্যাটিং, মেসেজিং ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়ে পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয়। সুতরাং প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবারের সকলকে সজাগ থাকা প্রয়োজন।
  • ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তা নষ্ট হতে পারে।
  • পর্ণগ্রাফির ফলে অনেক পরিবার সামাজিক সংকটে পড়ে। এমনকি বিবাহ-বিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটছে। ফলে এ ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা খুব জরুরী।

সামাজিক ইস্যু

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইস্যুগুলোও সামাজিক ইস্যুর মধ্যে পড়ে। এর বাইরেও আর বেশ কিছু বিষয় আছে যেগুলোকে আমরা সামাজিক ইস্যু বলতে পারি। তবে সামাজিক ইস্যুর ক্ষেত্রে নেতিবাচক দিকের পাশাপাশি বেশকিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সেগুলো হলো:

  • শিল্প ও কল-কারখানায় প্রযুক্তি ব্যবহারে করে অধিক পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে ফলে উৎপাদন বাড়লেও প্রযুক্তিতে অদক্ষ কর্মীরা কর্ম হারাচ্ছে যা বর্তমানে সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
  • পরিবেশ রক্ষা বিশেষ করে বৃক্ষ নিধন কমাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহায়কের কাজ করছে। অনেক অফিস আছে যেখানে আর কাগজ ব্যবহার হচ্ছে না। তারা ঊউও সিস্টেম চালু করেছে। ফলে কাগজের জন্য যে গাছ কাটা হতো তা কমে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে। পৃথিবীকে জলবায়ু ঝুঁকির হাত থেকে মুক্ত রাখতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান আছে।
  • পরিবেশ দূষণ রোধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান অনেক। অনেক অফিস আছে যেখানে ঘরে বসেই অফিস করা যায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। ফলে রাস্তায় কম গাড়ি চলছে ফলে ট্রাফিক জ্যাম যেমন কমছে অন্যদিকে কম জালানী পুড়ছে যা সব দিক দিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক ইস্যু

অর্থনৈতিক ইস্যু বিচারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নেতিবাচক ইস্যুর তুলনায় ইতিবাচক ইস্যুই বেশি। বলতে গেলে পৃথিবীর অর্থনৈতিক চাকা আমূল বদলে দিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো নিম্নরূপ:

  • প্রযুক্তি ব্যাপক চাহিদার ফলে এই সেক্টরের ব্যবসায়ীর বর্তমান পৃথিবীতে চেয়ে ধনীর কাতারে চলে এসেছেন। যেমন- মাইক্রোসফট, গুগল, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাগণ মূলত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন করেছেন এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম ।
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অর্থনৈতিক ইস্যু সব শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে পৌঁছেছেন। কেউ যেমন চাকরী হারাচ্ছেন অন্যদিকে কারোর ভাগ্যেও চাকা ঘুরে যাচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ফলে।
  • ই-কমার্স বিসনেজ তৈরি হয়েছে ফলে ঘরে বসেই ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব হচ্ছে।
  •  হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ চুরিও করা হচ্ছে।

নৈতিক ইস্যু

  • প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ব্যক্তির গোপনীয়তা হারাচ্ছে।
  • হ্যাকিং করার মাধ্যমে ব্যক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও হয়রানি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও চুরিও করা হচ্ছে।
  •  একজনের তৈরি করা সফটওয়ার চুরি বা পাইরেট করে অন্যরা ব্যবহার করছে।
  • ভুল বা উসকানীমূলক তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট এবং সম্প্রদায়গত সংঘাতের সৃষ্টি করা হচ্ছে।
  • পর্ণগ্রাফির মাধ্যমে ব্যক্তির বা সমাজের নৈতিক অপুরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

ব্যবস্থাপনা ইস্যু

আধুনিক জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তির ব্যবহার প্রায় সর্বত্র। ফলে শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমান সময়ে জীবন পরিচালনা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিনত হয়েছে। ব্যবস্থাপনা ইস্যুগুলো হলো:

  • পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সাধারণ ব্যক্তিরও জীবন গড়তে বা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যেমন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পালন করছে।
  • মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক জটিল ডায়াগনসিস ও অস্ত্রপচার করায় অপরিহার্য।
  • শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ করা, শিক্ষক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল তৈরি এবং প্রকাশ করা।
  • ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশে পূর্বে ব্যাপক সময় ও লোকবল প্রয়োজন হতো প্রযুক্তি ব্যবহারে তা এখন মাত্র কয়েকদিনেই সম্ভব হচ্ছে।

সাইবার বুলিং কী? সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয় বিষয় লিখুন।

সাইবার বুলিং

সাইবার বুলিং এক ধরণের জটিল মনস্তাত্ত্বিক উপদ্রব। বুলিং বলতে আমরা বুঝি দুইজন ব্যক্তির মধ্যে তর্ক বা দোষারোপের মাধ্যমে খারাপ ভাষায় আক্রমণ করা। যেমন- একজনের ছবি বা ভিডিও বিকৃতি করে অনলাইনে তুলে ধরা একটি সাইবার বুলিংয়ের উদাহরণ। সুতরাং সাইবার বুলিং হচ্ছে অনলাইনে কোন ব্যক্তিকে (শিশু, নারী বা বয়স্ক ব্যক্তি) প্রলুব্ধ বা হেয় প্রতিপন্ন করা, ভয় দেখানো এবং মানসিক নির্যাতন করা।

সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয়:

  • সাইবার বুলিংয়ে আক্রান্ত হলে সাড়া না দেওয়া এবং পাল্টা আক্রমণ না করা।
  • নিজেকে প্রথমেই বুঝানো যে এটি আমার দোষ নয়।
  • বুলিংয়ের শিকার হলে এর সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা।
  • কাছের বন্ধু বা আত্মীয়কে যতটুকু সম্ভব শেয়ার করা ও সহায়তা চাওয়া।
  • প্রাথমিক বুলিং হলে বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অসংলগ্ন কথা বললে তাকে ব্লক করে দেওয়া।
  • অভিভাবক হলে নিজের সন্তানদের প্রতি আস্থা না হারোনো।
  • সন্তানের প্রতি মনোযোগী হওয়া, তাদের কথাকে গুরুত্ব দেওয়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
  • ঘটনা শুনেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ইতিবাচক সমাধান, পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও আত্মসম্মান বজায় রাখা।
  • যেকোনো ধরনের বুলিংয়ের শিকার হলে বাংলাদেশ সরকারের জরুরি পুলিশ সেবার জন্য ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস বিনামূল্যের ৯৯৯–এ কল করা।

সাইবার ক্রাইম কী? সাইবার অপরাধের কয়েকটি উদাহরণ দিন।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠন করাকে সাইবার ক্রাইম বলা হয়। যদি কোন ব্যক্তি যেকোন ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সংক্ষরিত সিস্টেমে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে, তথ্য চুরি, তথ্য বিকৃতি প্রতারণা, অর্থ চুরি, ব্যাংকিং ডাটাবেজে প্রবেশ অর্থ ট্রান্সফার ইত্যাদি অপরাধ করে ক্ষতি করে, ভাইরাস প্রবেশ করায়, কম্পিউটার তথ্য ভান্ডারের ক্ষতি সাধন করে, সোর্স কোড পরিবর্তন করে, সিস্টেমের হ্যাকিং করে, মিথ্যা, অশ্লীল তথ্য প্রকাশ করে, তবে তাকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ বলে।

সাইবার অপরাধের ধরণ:

  • সাইবার বুলিং
  • সাইবার পর্ণোগ্রাফী
  • হ্যাকিং
  • ডিফেমিং বা ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করা
  • ম্যালওয়্যার
  • এ্যাকশান গেম
  • স্নাইফার
  • ক্লিক ফ্রড ইত্যাদি।

সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম এর শাস্তি কী? এর প্রতিরোধে করণীয় উপায় লিখুন।

বাংলাদেশের ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ৫৭ (২) ধারায়’ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। এর শাস্তি ৭ থেকে ১৪ বছরের জেল এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

৫৭ ধারায় যা বলা হয়েছে, তা হলো:

৫৭ (এক) কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।

অপরাধ দমণে করণীয়:

কেউ যদি কাউকে না জানিয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্তের কোনো আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও গ্রহণ, ধারণ করে এবং কোনো ইলেক্ট্রনিক বা ইন্টারনেট মাধ্যমে বা সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় তাহলে উপরিল্লিখ ৫৭ ধারায় মামল করতে পারবেন।

এছাড়াও যদি প্রমাণ থাকে যে, উক্ত ছবি বা ভিডিওতে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তি ধর্ষণের শিকারও হয়েছেন, সেক্ষেত্রে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০-এর ৯ (১) ধারায়’ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে তবে এজন্য মেডিকেল রিপোর্ট প্রয়োজন পড়বে।

icthometech

আগের পোষ্ট

পেশাগত শিক্ষা (৪র্থ খন্ড); ক্লাস-০৭

পরের পোষ্ট

পেশাগত শিক্ষা (৪র্থ খন্ড); ক্লাস-০৯

error: Content is protected !!